শিরোনামঃ

পদ্মা সেতু একটি চেতনার নাম!

 পদ্মা সেতু একটি চেতনার নাম!

অনলাইন ডেক্সঃ শেখ হাসিনা উন্নত বিশ্ব ও তাদের নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন, যা উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত অনেক দেশের নেতারা পারেন নাই। পদ্মা সেতু তাদেরও পথ দেখাবে।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল সেটা মিথ্যা প্রমাণ করেছে কানাডার আদালত। এর পেছনে বাংলাদেশের কোনো হাত ছিল না। কিন্তু যদি কানাডার আদালত এমন দ্ব্যর্থহীন রায় না দিত, তাহলে একটি মহল বলেই যেত- বাংলাদেশকে ঋণ দিও না, সে দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করো না। কারণ সবকিছু লুটপাট হয়ে যাবে। কেউ কেউ শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের দাবি করত। ঋণচুক্তি বাতিলের সময় (২৯ জুন, ২০১২) বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরকারবিরোধী আন্দোলন ছিল তুঙ্গে। হরতাল-অবরোধ  সফল  করায় তাদের হাতিয়ার ছিল পেট্রল বোমা। ধর্মান্ধ চরমপন্থী গোষ্ঠীও ছিল মরীয়া। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে থাকে। পুলিশের ওপর হামলা চালায়। গৃহযুদ্ধের হুমকি দেয়।  এমন সময়েই বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ আবাসিক প্রতিনিধি এলেন গোল্ডস্টেইন এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন- ‘ভবিষ্যতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ পেতে হলে শেখ হাসিনাকে অনেক অঙ্গীকার করতে হবে। ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে এবং তা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে কী-না সে বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিলের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পেছনে বাংলাদেশের মানুষের ব্যপক সমর্থন রয়েছে।’

এটা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বসেই বিশ্ব্যাংকের এক কর্মকর্তার নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। অভ্যন্ত্যরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের আরও ঘটনা আমরা পাই দৈনিক সমকালের ৩১ অক্টোবর, ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে- ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় অসন্তুষ্ট বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন- বিদেশী কূটনীকিদের বেশিরভাগই কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চললেও কেউ কেউ তা লঙ্ঘন করছেন।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে ড্যান মজিনার সফরের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে আমাদের সঙ্গে কথা বলাই শিষ্টাচার। আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে বাইরে গিয়ে কথা বলাটা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন।’

No comments

-->