শিরোনামঃ

বটগাছ রক্ষায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

 বটগাছ রক্ষায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

 মিজানুর রহমান মিলন, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হটকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রামপুর গ্ৰামের ৫০০ শতাধিক গ্ৰামবাসী মানববন্ধন করেছে। ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রামপুর গ্ৰামে ওই বটগাছের সামনে এই মানবন্ধন করেন গ্ৰামবাসীরা। মানববন্ধনে ইউপি সদস্য আজিজার রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আইবর রহমান, শিক্ষক সোহেল রানা হেলাল, আনসার আলী, ফজলুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সহ অন্তত ৫০০ গ্ৰামবাসী উপস্থিত ছিলেন।তাঁরা সবাই ঘর তৈরির নামে ১৫০ বছরেরও বেশি পুরাতন বটগাছ কাঁটার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনকারীরা জানান, উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রামপুর গ্ৰামের ছয় শতাংশ খাস জমির উপর এই বটগাছটি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। শিক্ষক সোহেল রানা হেলাল জানান,১৫০ বছরের প্রাচীন এই বটগাছটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। বটগাছ টি সরকারি খাস জমির উপর। সরকারি ভাবে ওই জমিতে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ বান্ধব ঐতিহ্যবাহী ওই বটগাছ টি বা বট গাছের সাথে ঘর নির্মাণ করা হলে গাছটি ধীরে ধীরে মারা যাবে ।এখন গাছটির অবস্থান পুরো জায়গা জুড়ে। 

এতে দিনমজুর কৃষক ও পথচারীদের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।এই খাস জমিতে সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে এখানে দুটি ঘর স্হাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু ঘর করার জন্য ১৫০ বছরের পুরনো এই গাছ কাটা খুব নির্দয় সিদ্ধান্ত বলে অভিযোগ করেছেন স্হানীয়রা। কৃষক আমজাদ হোসেন জানান,আমরা গ্ৰামের অধিকাংশ কৃষক । মাঠে কাজ শেষে আমরা এখানে গা জুড়িয়ে নেই। বিশ্রাম করে থাকি। প্রচন্ড রোদে এই বটগাছের নিচে বিশ্রাম ও বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে খেয়ে থাকি।আমরুল ইউনিয়নের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান লিটন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশংকা দেখা দিয়েছে। তিনি ইচ্ছে করলে অন্য কোন খাস জমিতে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করতে পারেন।

প্রাচীন এই বটগাছকে ধ্বংস্ব করে কোন স্হাপনা আমরা চাইনা। আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটল জানান, গ্ৰামবাসীর দাবি যুক্তি সঙ্গত।আমরুল ইউনিয়নে খালবিল নদী নালা ভিটামাটি সহ  ৯২ একর খাস জমি রয়েছে।এর যেকোন স্হানে প্রকল্পটি সুন্দর ভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এতে গ্ৰামের ঐতিহ্য , পরিবেশ ও ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে গ্ৰামবাসী। মানববন্ধনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বটগাছ বা শিকড় কেটে ভূমিহীনদের ঘর তৈরি কে হটকারী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। 

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে শাজাহানপুর ইউএনও মাহমুদা পারভীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না  ধরায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন,'মানবন্ধনের বিষয়টি শুনেছি। এখানে একটি ভুল ধারণা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে বটগাছ কেটে ঘর তৈরি করা হচ্ছে না।আশ্রায়ন প্রকল্পের ওই ঘর তৈরিতে গাছের কিছু শিকড় কাঁটা পড়তে পারে।তবে গ্ৰামবাসীরা যদি না চায় ওটা না কেটে প্রকল্পের কাজ করা হবে।

No comments

-->