নতুন প্রকাশিতঃ

বগুড়া পৌর নির্বাচন মনোনয়ন পেতে সরকারি দলের তদবির

 বগুড়া পৌর নির্বাচন মনোনয়ন পেতে সরকারি দলের তদবির

উৎপল কুমার, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়া পৌর নির্বাচন : দলীয় মনোনয়ন পেতে সরকারি দলের নেতাদের তদবির।তফসিল ঘোষণার আগেই বগুড়ার পৌরসভাগুলোয় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছিলৃ। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এরমধ্যে গত (১৪ডিসেম্বর) দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর প্রচার-প্রচারনা ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌরাত্ম্য জোরালো হয়েছে।   এক্ষেত্রে সরকারি দলে প্রকাশ্য তদবির জোরালো হলেও বিএনপিতে চলছে গোপনে তোড়জোড়। তৃণমূলের নেতারা চেয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে।

বগুড়া জেলা নির্বাচন কমিশন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় ১২টি পৌরসভা রয়েছে। এগুলো হলো বগুড়া সদর, ধুনট, শেরপুর, কাহালু, নন্দীগ্রাম, সান্তাহার, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ, গাবতলী, সোনাতলা, দুপচাঁচিয়া এবং তালোড়া। এর মধ্যে শেরপুর, সারিয়াকান্দি ও শান্তাহার পৌরসভার   নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে হচ্ছে । নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, বগুড়া পৌরসভায় ওয়ার্ড রয়েছে ২১টি। বাকি পৌরসভাগুলোয় ৯টি করে ওয়ার্ড রয়েছে।আয়তন ও ভোটারের দিক থেকে বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রধান পৌরসভা। এখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৭১১ এবং আয়তন প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার। শহরের প্রতিটি এলাকা সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। তারা গণসংযোগ, উঠান বৈঠকসহ নানাভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন।

এছাড়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অন্য আটটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা রয়েছে সান্তাহারে ২৩ হাজার ২৮৮, কাহালুতে ৮ হাজার ৭০১, গাবতলীতে ১৫ হাজার ৫৫৩, ধুনটে ৯ হাজার ৯২২, নন্দীগ্রামে ১৩ হাজার ৬৫৭, শিবগঞ্জে ১৬ হাজার ৯৩, শেরপুরে ২০ হাজার ৪০, সারিয়াকান্দিতে ১৪ হাজার ১২৫। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় অনেক জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী। এজন্য দলীয় প্রার্থিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেউই দলের হয়ে তা প্রকাশ করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা জানান,  তাদের দলের যোগ্যতা থাকলেও অনেকেই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পাচ্ছেন না। মেয়র পদে বিএনপির একাধিক প্রার্থী জেলা যুব দলের সাবেক সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার,  জেলা বিএনপির সাবেক সাঃসম্পাদক রেজাউল করিম বাদশা নির্বাচনের মাঠে প্রচার প্রচারনায় নেমেছে। তারা তাকিয়ে আছেন বিএনপির হাইকমান্ডের দিকে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসলেই কেবল সম্ভাব্য প্রার্থীরা কোমড় বেধে মাঠে নামবেন।

তবে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি নেতারা পোস্টার, ব্যানার সাঁটিয়ে এলাকায় গণসংযোগে করছেন। অন্য একটি সূত্র জানায়, মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভে বগুড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ওবায়দুল হাসান ববি,শহর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান, জেলা  আঃলীগ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান মিলন ও শ্রমিক লীগ নেতা সামছুদ্দিন শেখ হেলাল চেষ্টা করছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়ে গাছে বিভিন্ন যায়গায়  লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেঁটে দেওয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র অসংখ্য কাউন্সিলর প্রার্থীর দোয়া ও সমর্থন চেয়ে পোস্টার-প্যানা এবং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন । 

সেক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাঁরাও দোয়া ও সমর্থন চেয়ে সেঁটে দিয়েছে পোস্টার প্যানা এবং ব্যস্ত সময় পার করছেন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে প্রচার চালাতে। সব মিলিয়ে  ঠান্ডার প্রকোপ থাকলেও বগুড়ায় এখন নির্বাচনী গরম হাওয়া বইছে। মোড়ের চা এর দোকান গুলোতে চলছে নির্বাচনী গল্প- গুজব আর তর্ক-বিতর্ক।

No comments

-->