শিরোনামঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে আলজেরিয়া সফরে দেয়া হয় ব্যাপক গণসংবর্ধনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে আলজেরিয়া সফরে দেয়া হয় ব্যাপক গণসংবর্ধনা   

অনলাইন ডেক্সঃ আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলাের মধ্যে আলজেরিয়া ছিল বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের প্রতি আলজেরিয়ার বন্ধুতাপূর্ণ সমর্থন ছিল। কিন্তু আরব দেশগুলাের ওপর বিভিন্ন বিষয়ে নির্ভরশীলতা আলজেরিয়ার বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানে বিলম্বিত করেছিল। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে এবং ১৬ জুলাই স্বীকৃতি দান করে। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ যােগ দেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আলজিয়ার্সে জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে যােগদান ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এটি তার মুসলিম বিশ্বের প্রতি পররাষ্ট্রনীতির একটি মাইলফলকও বটে। এ সম্মেলনে বিশ্বের শান্তি আন্দোলন এবং পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক জোটের বাইরে একটি শক্ত জোরালাে নিরপেক্ষ অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বের মনােযােগ কাড়তে সক্ষম হন। এখানে তার সাথে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের ব্যাপক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি মুসলিম বিশ্বের ব্যাপক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। পাকিস্তানের মিথ্যা প্রচারণায় মুসলিম বিশ্ব বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা পােষণ করত। তিনি মুসলিম বিশ্বের নেতাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও ধারণা প্রদান করেন। এ সম্মেলনের পরপরই অনেক মুসলিম দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে যােগ দেওয়ার জন্য আলজেরিয়ায় পৌছালেন, বিশ্বনেতা হিসেবে রাজকীয় সম্মান লাভ করলেন আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুমেদিনের কাছ থেকে। দুজনের কোলাকুলির ছবি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য লাভ করল সে দেশের জাতীয় পত্রপত্রিকাতে। সারা পৃথিবী থেকে ৯২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে এ সম্মেলন। সম্মেলনের শুরুতে পরিচয়পর্ব, আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুমেদিন স্বয়ং সকলকে পরিচয় করে দিচ্ছেন। আর করতালিতে মুখর সম্মেলন কক্ষ। কিন্তু যখন বঙ্গবন্ধুকে পরিচয়ের পালা, এ যেন এক অভূতপূর্ব ঘটনা। সম্মেলন কক্ষের সকলে দাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে ব্যাপক করতালির মধ্য দিয়ে বরণ করে নিলেন বিশ্বের নেতৃবর্গ। করতালি যেন থামছেই না। আলজিয়ার্সে আরেকটি উল্লেখযােগ্য ঘটনা ঘটল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব সম্পর্কে সেখানকার একমাত্র ইংরেজি পত্রিকায় এক পৃষ্ঠাব্যাপী বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলাে তার শিরােনাম ছিল, 'দি লিডার উইদাউট বিয়ার্ড, নিদার ভিজিটেড এনি নাইট ক্লাব নর টাচড ড্রিংকস ইন লাইফ।

আলজেরিয়ার কাছে সদ্য স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সে দেশের প্রেসিডেন্ট বুমেদিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক দুটি রাষ্ট্রের মাঝে বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে। যার ফলে পরবর্তী ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাহােরে অনুষ্ঠিত ওআইসির সম্মেলনে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ব্যাপারে বুমেদিন মধ্যস্থতা করেন। বুমেদিনের সৌজন্যে ১৯৭৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২২ জন প্রতিনিধি নিয়ে আলজেরিয়ার বিশেষ বিমানে লাহােরে ওআইসির সম্মেলনে যােগ দেন। সম্মেলনের পরেই ১৯৭৪ সালের ৮ মার্চ বুমেদিন বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করেন। এ সফরে বুমেদিনের সাথে বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ের বৈঠকে দুদেশের মাঝে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফলে দুটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পারস্পরিক সফর আলজেরিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করে তােলে।

সূত্র - বঙ্গবন্ধু ও মুসলিম বিশ্ব

পৃষ্ঠা- ৬৩, ৬৪

No comments

-->