নতুন প্রকাশিতঃ

নাটোরে বাগাতিপাড়ায় শখের কোয়েল পাখি পালনে স্বাবলম্বী সজিব!

 নাটোরে বাগাতিপাড়ায় শখের কোয়েল পাখি পালনে স্বাবলম্বী সজিব!



মোঃ কামাল মাহমুদ 

বাগাতিপাড়া,(নাটোর)


প্রতিনিধিঃ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সজিব আহমেদ নামে এক যুবক নিজ পেশায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শখে কোয়েল পাখির খামার ও হ্যাচারি গড়ে বার্ষিক দুই’লক্ষাধিক টাকা বাড়তি আয় করছেন। ক্রমান্বয়ে খামারের প্রসার ঘটছে। বেকার যুবকরা এমন কাজে সম্পৃক্ত হলে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।


সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কৈপুকুরিয়া গ্রামের পাশে একটি বিশাল আম বাগানে গড়ে উঠেছে কোয়েল পাখি’র খামার ও হ্যাচারি। দুটি টিন সেডে শোভাপাচ্ছে ৪ সহস্রাধিক কোয়েল পাখি। খামারটি পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখরিত। মালিককে পেয়ে খাবার আশায় ছুটাছুটি করছে পাখিগুলো ।


কৈপুকুরিয়া গ্রামের সজিব আহমেদ খামার ও হ্যাচারির মালিক। তিনি প্রায় ৪ বছর আগে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কম্পিউটারে অনলাইনে কাজ করার পাশাপাশি শখের বসে অল্প পরিসরে সজিব এগ্রো নামে একটি ছোট্ট কোয়েল পাখি’র খামার গড়ে তুলেন। তিনি প্রথমে তিনি ৩ হাজার টাকা মুলধন নিয়ে ১শত ৭০টি কোয়েলের বাচ্চা ক্রয় করেন। ক্রমান্বয়ে খামারের প্রসার ঘটতে থাকে। অল্পদিনের মধ্যে খামারের পাশে একটি কোয়েল পাখির হ্যাচারিও গড়ে তোলেন।


বর্তমান একটি সেডে ৪ সহস্রাধিক কোয়েল পাখি রয়েছে। এরমধ্যে ২ সহস্রাধিক ডিমপাড়া যোগ্য পাখি রয়েছে। এগুলো প্রতিদিন পুষ্টিগুণ সম্পুর্ণ ১৪ শতাধিকডিম দেয়। ডিমপাড়া যোগ্য প্রতিটি কোয়েল পাখি বছরে ২শত ৮০ থেকে ৩ শত ডিম দেয়। প্রতিটি ডিম ১ টাকা ৮০পয়সা থেকে ২ টাকায় বিক্রি হয়।


অপরদিকে অন্য সেডে রয়েছে তাঁর নিজস্ব হ্যাচারি। সেখানেই নকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয় এবং বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে তাপ দেওয়া হয়। এ কৃত্রিম তাপ দেওয়াকে ব্রুডিং বলে। ইনকিউবেটর মেশিনে ডিম দেওয়ার ১৭/১৮ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। ফোটানো বাচ্চা গুলোকে দুই সপ্তাহ কৃত্রিম ভাবে তাপ দেওয়া হয়।


এখানে প্রতিমাসেই নকিউবেটর মেশিনে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার বাচ্চা ফোটানো হয়। তিনি উৎপাদিত ডিম ও ফোটানো বাচ্চাগুলো বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য বেকার যুবক এ কাজে সম্পৃক্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে সফলতা অর্জন করছেন।


এখানে একদিন বয়সী প্রতিটি বাচ্চা ৫/৬ টাকায় বিক্রয় করা হয়। এক মাস বয়সী মানুষের খাবার যোগ্য প্রতিটি পাখির মুল্য নেওয়া হয় ২৫/৩০ টাকা। কোয়েলপাখি ৪০/৫০দিন বয়সে ডিম দিতে শুরু করে। ডিম পাড়া যোগ্য প্রতিটি কোয়েল পাখি মূল্য ৪৫/৫০ টাকা নেওয়া হয়।


সজিব আহমেদ জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শখে কোয়েল পাখি’র খামার ও হ্যাচারি গড়ে তুলেছেন। বেকার যুবকরা এ কাজে সম্পৃক্ত হলে সংসারে সফলতা অর্জনে সক্ষম হতে পারবেন। তিনি প্রতি বছর তাঁর খামার ও হ্যাচারি থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা বাড়তি আয় করেন।

No comments

-->