নতুন প্রকাশিতঃ

নওগাঁয় দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশী নির্যাতন ও হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

 নওগাঁয় দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশী নির্যাতন ও হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ সদরের মুন্সিপাড়ায় দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশী নির্যাতনে করে নরেশ চন্দ্র দাসকে হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার দৃপূরে নিহত নরেশ দাসের নিজ বাড়িতে স্ত্রী রিতা রাণীসহ পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ করেন। এ সময় তার ছেলে রাজকিরণ দাস, মেয়ে রত্না রাণী ও ভাগিনা পরেশ দাস উপস্থিত ছিলেন।হত্যার অভিযোগে নওগাঁ সদর থানার (বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানায় কর্মরত) এএসআই মাসুদ রানা এবং অজ্ঞাত আরো দুই জনের বিরুদ্ধে নওগাঁ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নরেশ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন নওগাঁ সদর থানার (বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানায় কর্মরত) এএসআই মাসুদ রানা। কিন্তু দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৭ মে নওগাঁ সদর থানার এএসআই মাসুদ রানা ৩ বার মোবাইল ফোনে নরেশ দাসকে দেখা করার জন্যে বলেন। নরেশ দাস দেখা না করায় ও ব্যস্ত থাকায় সন্ধ্যায় দিকে এএসআই মাসুদ রানা এবং অজ্ঞাত দুইজন তাদের বাড়ি থেকে নরেশ দাসকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে বাড়ির বাহিরে নিয়ে যান। এরপর বুকে-পিঠে আঘাত ও মারপিট করে হ্যান্ডকাপ খুলে নরেশ দাসকে রাস্তায় ফেলে যান। 

পরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পেয়ে রাতেই নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও তা গ্রহণ না করে পুলিশীসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্তায় নওগাঁ আদালতে এএসআই মাসুদ রানা এবং অজ্ঞাত দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় হয়েছেন তারা।

নিহতের পরিবার আরো অভিযোগ করে বলেন, নরেশ দাসকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে ইত্যে পূর্বেও ৩০ হাজার টাকা আত্বসাৎ করেন তিনি। নিহতের এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতের বিচারক পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি সুষ্ঠ তদন্ত করে দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

নিহত নরেশ দাসের স্ত্রী রিতা রাণী বলেন, তার স্বামী সুম্পন্ন সুস্থ্য ছিলেন। তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বুকে-পিঠে আঘাত ও মারপিট করলে অসুস্থ্য হয়ে পরলে হ্যান্ডকাপ খুলে তাকে রাস্তায় ফেলে যান এএসআই মাসুদ রানাসহ অজ্ঞাতরা। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ সদর থানার সাবেক (বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানায় কর্মরত) এএসআই মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নরেশ দাসকে কখনো দেখেননি।নওগাঁ সদর থানার ওসি সোহরাওয়ার্দি হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় তাকে আটক করা হয়। সে সময় নরেশ দাস অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাকে ফেলে চলে আসে পুলিশ সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

নওগাঁ পিবিআই-এর পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোন কাগজপত্র হাতে পাইনি। পেলে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

No comments

-->