নতুন প্রকাশিতঃ

খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরী করে সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের গাছিরা।

 খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরী করে সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের গাছিরা।

মোঃসোহেল রানা,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম বারের মতো খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরী শুরু হয়েছে চিনিকলের একটি খেজুর বাগান থেকে। প্রাকৃতিক পরিবেশে তৈরীকৃত গুড়ের চাহিদা বেশি হওয়ায় সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন গাছিরা। গুড় কিনতে প্রত্যহ ভীড় করছেন শতশত ক্রেতা ও দর্শনার্থী।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বোচাপুুকুর মোহন ইক্ষু খামারের পার্শ্বে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের একটি খেজুর বাগান রয়েছে। দীর্ঘদিন পর চিনিকল কর্তৃপক্ষ খেজুর বাগানটি বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে লিজ দেয় এবার। রাজশাহীর ৭ জন গাছি ২২ হাজার টাকায় এবার বাগানটি প্রথমবারের মতো লিজ নেয়। লিজ নিয়েই তারা খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরী শুরু করে। গাছের পরিচর্যা সহ রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। বাগনে মোট ৬’শ খেজুর গাছের মধ্যে প্রতিদিন ৪’শ গাছ থেকে গড়ে ৫’শ লিটার রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে গড়ে ৮০ কেজি করে গুড় তৈরী হচ্ছে। গুড় ও রস বিক্রি করে গাছিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

গাছি সুজন আলী জানান, প্রাকৃতিকভাবে ও নির্ভেজাল গুড় তৈরী করায় এখানকার গুড় ও রসের চাহিদা অনেক । এখানকার উৎপাদিত গুড় তাদেরকে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। ক্রেতারা এখান থেকে রস ও গুড় কিনে নিয়ে যায়। অনেকে একসপ্তাহ আগেই রস ও গুড় নেওয়ার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখলেও তাদের অনেককে আমরা রস ও গুড় দিতে পারছি না। গাছ থেকে রস কম উৎপাদন হওয়ার কারণে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে এখানে এক লিটার খেজুর রস ৫০ টাকা দরে ও এক কেজি গুড় ১’শ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়।বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে আসা হুসাইন আহম্মদ নামে একজন ক্রেতা জানান, সকাল ৭টায় এসেও তিনি রস ও গুড় কিনতে পারেন নি। তিনি আসার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। তার মতো অনেকেই গুড় কিনতে এসে ফেরত যাচ্ছেন খালি হাতে।

পঞ্চগড় জেলা থেকে আগত একদল তরুণ জানান, পঞ্চগড় থেকে ভোর ৬ টায় বাইক নিয়ে রওনা দেন তারা খেজুরের রস খাওয়ার জন্য। এখানে এসে খুব কষ্টসাধ্যে দুই হাড়ি রস ৭’শ টাকায় কিনে খান। তবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী রস খেতে না পারলেও বাগানের পরিবেশ দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন।

বাগানে খেজুরের রস ও গুড় কিনতে আসা রাইমা আকতার সহ কয়েকজন জানান, প্রাকৃতিকভাবে ও ভেজাল মুক্ত হওয়ায় এখানকার রস ও গুড় অনেক সু-স্বাদু ।এদিকে শীতকে উপেক্ষা করে স্থানীয়রা পরিবারের শিশু ও বড়দের সাথে নিয়ে স্বপরিবারে প্রাকৃতিকভাবে খেজুরের গুড় তৈরির দৃশ্য দেখতে ছুটে আসছেন ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেজুরের রস হচ্ছে না। ভবিষত্যে যাতে চাহিদা অনুযায়ী রস ও গুড় উৎপাদন করা যায় এবং গাছ পরিচর্যার ও গাছিদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যাপারে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ, খেজুর বাগন মালিক ও কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলা হয়েছে। বাগানের পরিচর্যা করা হলে আগামীতে খেজুর রসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

No comments

-->