নতুন প্রকাশিতঃ

বগুড়ার শিবগঞ্জে রবিশস্য চাষ করে আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত কৃষকরা

 বগুড়ার শিবগঞ্জে রবিশস্য চাষ করে আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত কৃষকরা

শেখর চন্দ্র সরকার স্টাফ রিপোর্টসঃ


বগুড়া জেলার কৃষক'রা বরাবরাই রবিশস্য ফলাতে অক্লান্ত পরিশ্রমী। অগ্রহায়ণ মাসের আমন ধান কাটা প্রায় শেষ। কৃষিখাদ্য উৎপাদন হিসেবে খ্যাত বগুড়া জেলার সবউপজেলা মাঠগুলো এখন কৃষকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ফজর এর আযানের সু-মধুর সুর কানে আসার পরথেকে শুরু হয় মাঠের  জমিগুলোতে কাজ  সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে রবিশস্য চাষ। এক কথায় বগুড়ার কৃষকরা আতি ব্যস্ত সময় পার করছে। করতোয়ার নদী বগুড়া জেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে তাই বন্যার ব্যপক ক্ষতি সাধনের পরেও রবিশস্য নিয়ে এলাকার কৃষক বেশ আশাবাদী। রবিশস্য ফলিয়ে আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আশাবাদী কৃষকরা । নদী এলাকায় আমনের ফলন ক্ষতি হলেও বাঁকী সবএলাকা জুড়ে এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে  এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক বেশ খুশি।  এ সময় আবহাওয়া অনূকুলে থাকে তাই রবিশষ্য চাষে জমিতে বাড়তি সময় পার করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবিশস্য মৌসুমে এবারে উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার পাঁচ’শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। হিসাব মতে, শিবগঞ্জ পৌরসভায় ৫’শ হেক্টর, বিহার ইউনিয়নে ৯২০ হেক্টর, রায়নগর ১১’শ সত্তর হেক্টর, পীরব ১৪২০ হেক্টর, দেউলী ১ হাজার ৫২০ হেক্টর, মাঝিহট্ট ১ হাজার ৬২০ হেক্টর, শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর, কিচক ১ হাজার ৮০৫ হেক্টর, সৈয়দপুর ১ হাজার ৬০৫ হেক্টর, বুড়িগঞ্জ ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর, মোকামতলা ১ হাজার ২০ হেক্টর, আটমুল ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর, ময়দানহাট্টা ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে আলু। পাশাপাশি অন্যান্য রবিশস্য মধ্যে উপজেলায় ফুলকপি ৩’শ হেক্টর, বাধাকপি ২’শ ৫০ হেক্টর, মুলা ৫’শ হেক্টর সরিষা ৬’শ ৫০ হেক্টর, গম ৮০ হেক্টর, ভূট্টা ২০০ হেক্টর, পেঁয়াজ ৩০০ হেক্টর, টমেটো ১০ হেক্টর, বেগুন ২০০ হেক্টর, সিম ১০ হেক্টর এবং বরবটি ৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলার কৃষকরা কেউ পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছে আবার কেউ বীজ রোপন করছে। একদল আবার বেড়ে ওঠা বিভিন্ন সবজী গাছের পরিচর্যাসহ পোকা- মাকড়ের আক্রমণ হয়েছে কি না পরীক্ষা করছেন, কেহ আক্রান্ত গাছে প্রতিষেধক প্রয়োগ করছেন। আমন ধান উঠার সাথে সাথে এভাবেই আবাদি মাঠে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন চাষিরা। তারা আলু, শিম, লাউ বেগুন, মুলা,ফুলকপি বাধাকপিসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করতে জমিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও পোকা-মাকরের আক্রমণ কম হলে এবারও রবিশস্য চাষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষক ও  কৃষি বিভাগ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আল মোজাহিদ সরকার বলেন, আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রতিনিয়িত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। এছাড়াও অল্প খরচে বেশি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাই আশা করা যায় এবার এলাকায় রবিশস্যের বাম্পার ফলন হবে।

No comments

-->