নতুন প্রকাশিতঃ

গোদাগাড়ীতে পেরিলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষক অপার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগ

 গোদাগাড়ীতে পেরিলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষক অপার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগ



মোঃ ইসহাক

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) উপজেলা প্রতিনিধিঃ 

ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই মানসম্মত ভোজ্য তেল উৎপাদন বৃদ্ধিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষকের অক্লান্ত প্রচেষ্টায়  ‘গোল্ডেন পেরিলা’ নামে একটি উচ্চ ফলনশীল তেল বীজের জাত আবিস্কার করেন যা দেশের আবহাওয়ার সাথে সহনশীল।


গোদাগাড়ীতে সর্বপ্রথম চাষ করা মোঃ শাহাদাত হোসেন এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি পেরিলা চাষ সম্পর্কে সর্বপ্রথম  ইউটিউবে দেখেন এবং আগ্রহী হয়ে উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ নিতে যান । প্রাথমিক অবস্থায় কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় দশ কাঠা চাষ করেন।

চাষ পদ্ধতি সহজ, আবহাওয়া উপযোগী ও পানি কম লাগায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আগ্রহের সৃষ্টি লক্ষ্য করা গেছে।


  ২০০৭ সালে পেরিলা চাষ নিয়ে অল্প পরিসরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক অধ্যাপক ডঃ এইচ এম তারিক হোসেনের নেতৃত্বে  কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম ,সহযোগী গবেষক হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন মিলে গবেষণা শুরু করেছিলেন।

  

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মতিয়র রহমান বলেন, পেরিলা একটি সম্ভাবনাময় ফসল।প্রথমে চারা তৈরির জন্য তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে । এটি লাগানোর ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এই ফসলে রোগবালাই তুলনামূলক কম ও পানি কম লাগায় কৃষকদের খরচ অনেক কম হয়ে থাকে বলে জানান। 

   

কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম সৌরভ বলেন, পেরিলা অত্যন্ত উপকারী ভোজ্য তেল।এটি সাধারণত জাপান, ভিয়েতনাম, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া,নেপাল,চীন ও ভারতের কিছু কিছু এলাকায় চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেলের আবহাওয়া সাথে মানিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল দীর্ঘদিন গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।

পেরিলায় ৫০-৬০ ভাগ ওমেগা-৩ফ্যাটি এসিড থাকে যা হার্টের জন্য খুবই উপকারী। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এছাড়াও চোখের রোগ,উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বলে জানা যায় ।


ইতোমধ্যে ব্যবহৃত পেরিলাকে জাতীয় বীজ বোর্ড "গোল্ডেন পেরিলা বিডি"নামে নতুন জাতটির নিবন্ধন দিয়েছেন ।

No comments

-->