নতুন প্রকাশিতঃ

রাজশাহী জেলা ডিবির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহন ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 রাজশাহী জেলা ডিবির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহন ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।

মাজহারুল ইসলাম চপল, রাজশাহীঃ রাজশাহীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি) এর  বিরুদ্ধে ঘূষ গ্রহনসহ নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


১৪ নভেম্বর সকাল ১০ টায় রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভুগি পরিবার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ নভেম্বর রাত ১ টার সময় দূর্গাপুর থানার ঝালুকা গ্রামে মোস্তফার ছেলে রাজু (৩০) কে তার শয়ন কক্ষ থেকে আটক করেন করেন জেলা ডিবি পুলিশের সাদা পোশাকে ৫ সদস্য। রাজুকে আটককের অনেক পরে তার মা কে ডাকেন পুলিশ। সে সময় রাজুর মা কে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করার কথা বলে চলে আসেন পুলিশ। রাজুর মা উপান্তর না পেয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার কুহাড় গ্রামের রাজুর মামাতো ভাই  মাছ ব্যবসায়ী ওমর ফারুককে ফোন দেন এবং আসতে বলেন। ওমর ফারুক এসে ফোন নম্বর নিয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারেন জেলা পুলিশের আতিক রেজা নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর সেটি। তাৎক্ষনিক অর্থ্যাৎ ঐ রাতে আতিক রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওমর ফারুক। যোগাযোগ করলে ডিবির আতিক রেজা তার পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় দিয়ে ওমর ফারুক বলেন আমি রাজুর মামাতো ভাই । তখন ডিবির আতিক ওমর ফারুককে ৫নং ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহার আলীর বাড়ির নিকট ডাকেন। তখন ওমর ফারুক ও তার বড় ভাই সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিনকে সঙ্গে নিয়ে আতিক রেজার সঙ্গে দেখা করেন। আতিক রেজার কাছে গেলে ৫ জন সাদা পোশাকে একটি সাদা রংগের মাইক্রো সহ দেখতে পাই। এ সময় আতিক রেজা জানায়, তারা রাজুকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক করেছে। রাজুকে ছাড়াতে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। ওমর ফারুক ঐ সময় তাদের আর্থিক অবস্থার সোচনীয় বললে তারা দরদামের এক পর্যায়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। আতিক রেজা এ সময় আরও বলেন এই মামলার অন্য আসামী রাজুর আর আপনার আরেক ভাই আজমত। তাকে এই মামলায় না জড়াতে চাইলে এই রাতেই ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসেন অন্যথায় রাজু তো জেলে যাবেই সঙ্গে আজমত আসামী হবে। পরে রাতেই ওমর ফারুকের চাচা খলিলুর রহমানের নিকট থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়ে গিয়ে আতিক রেজার হাতে দেয়। বাকি ৪ লক্ষ টাকা পরে দিন ৮ নভেম্বর সকাল ১১ টায় দিবে মর্মে সময় নেয় ফারুক। 

পরের দিন আজমতের সঙ্গে কথা বললে সে টাকা দিবে না মর্মে জানিয়ে দেয় । তার একটায় প্রশ্ন আমি কেন টাকা দিবো। এ দিকে আতিকের একের পর এক হুমকি আসতে থাকে ফারুকের নিকট । টাকা না পেয়ে ওমর ফারুকের উপর চরম ক্ষেপে যান আতিক রেজা। পরে ফারুককে ফাঁসাতে মরিয়া হয়ে উঠেন আতিক। এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ নভেম্বর আবারো আতিক ফোন দেন ওমর ফারুককে । এ সময় ওমর ফারুকের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করেন আর বলেন টাকা এবার ১০ লাখ দিবি, তোকে ফাঁসাবো আর তোর ভাই ব্রাদার যারা আছে তাদের সবাইকে ফাঁসাতে যা যা করা লাগে করবো। এ অবস্থায় চরম হুমকি ও আতংকের মধ্যে অতিবাহিত করছে ভুক্তভুগি পরিবার। 

অপর দিকে রাজুর মা জানান, আমার ছেলে নিরাপরাধ। সে মাদক খাওয়াতো দুরের কথা সে সিগারেট পর্যন্ত খায় না। এই এলাকাতে আমাদের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দের জের ধরে দীর্ঘদিন থেকে রাজুকে ফাঁসানো জন্য চক্রান্ত করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে রাজুর মা আরও বলেন, রাতে তার ছেলে ঘরে শুয়ে ছিল। তাকে তার ঘর থেকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে জানানো হয় যে, রাজুর নিকট থেকে মাদক ও অস্ত্র পাওয়া গেছে। আপনারা এলাকাতে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন  রাজু কেমন ছেলে। রাজুকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবী করেন । পরে সাংবাদিকরা রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায়  ইন্সেপেক্টর পদে কর্মরত আতিক রেজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সকল বিষয় অস্বিকার করেন এবং ফোন কেটে দেন।  


এ বিষয়ে  জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখ্যপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব ইফতাখায়ের আলম এর সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামী গ্রেফতার হয়েছে জানি কিন্তু সেখানে ঘুষ বা কোন ধরনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে জানা নাই। তবে এ ধরনের অভিযোগের কোন সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওযা হবে।

No comments

-->