নতুন প্রকাশিতঃ

কিশোরগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন। কৃষকের মুখে হাসি।

 কিশোরগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন। কৃষকের মুখে হাসি।



স্টাফ রিপোর্টারঃ

সূর্যের আলোয় কুয়াশা ভেদ করে বেরিয়ে আসে ভোরের প্রকৃতি। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে দিগন্ত বিস্তৃত আমন ক্ষেত। সোনা রোদে মাঠে সোনালী ধানের শিষ ঝিকিয়ে 

উঠেছে। আর পাকা ধানের ম-ম গন্ধে মাতোয়ারা কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে খুশির ঝিলিক। এই হেমন্তে কাটা হবে ধান, আবার শূন্য গোলায় জাগবে ফসলের বান-বান এসেছে ফসলের।এখন গোলা ভর্তি ধান। মরা কার্তিকের শেষ।শুরু হয়েছে সমৃদ্ধির অগ্রাহায়ণ। লোককবির ভাষায় আইলো অগ্রাহায়ণ খুশিতে নাচে প্রাণ। চাষী কাঁচিতে দিল শান। কাঁচি হাতে কচা কচ কাটে চাষি পাকা ধান। নতুন চালে 

হবে নবান্ন। ঘরে ঘরে পিঠে পুলির আয়োজন। উৎসব পরিবেশে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো উপজেলা জুড়ে চলবে আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের মহোৎসব। চলতি মৌসুমে আমন ধানে দেখা দিয়েছে ত্রিমুখী লাভের সম্ভাবনা,ধানের বাম্পার ফলন, ন্যায্য মূল্য, বাজারে খড়ের চাহিদা ব্যাপক সবকিছু মিলিয়ে কিষাণ-কিষাণীর মুখে দেখা গেছে আনন্দের ছাপ। ইতিমধ্যে আগাম জাতের আমন ধান কাটা মাড়াই করে আবার একই জমিতে আরেকটি অল্পসময়ের বাড়তি আলু বা সরিষার মতো ফসল চাষাবাদ করে ইরি ধান সময়মত লাগাতে পারবে কৃষক। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘুরে দেখা গেছে,মাঠের পর মাঠ ধানি বিলগুলো সবুজের আবহ পেরিয়ে পাকা আমন ধান সোনালী হাসির শোভা ধারণ করছে। সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কৃষক আজাদ আলী, মধ্য রাজিবের 

গাউসুল আজম, বাহাগিলী ইউনিয়নের দুলাল হোসেনসহ অনেকে জানান, সকল 

প্রতিক্থল অবস্থা কাটিয়ে গত বছরের তুলনায় এবার রোপা আমনের ভাল ফলন হবে। 

পাশাপাশি গো-খাদ্য হিসেবে কঁাচা ঘরের ব্যাপক চাহিদা থাকায় খড় ব্যবসায়ীগণ ধান কাটা-মাড়াইয়ের পর বাড়ি থেকে কঁাচা খড়বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান,চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৯২৯ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি।

No comments

-->