নতুন প্রকাশিতঃ

কিশোরগঞ্জে মজুরি বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিক

 কিশোরগঞ্জে মজুরি বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিক

স্টাফ রিপোটারঃ

কবি নজরুল ইসলাম তার কবিতায় 

লিখেছেন, সাম্যের গান গাই-আমার চক্ষে পুরুষ- রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। “বিশ্বে যা 

কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর“। বিশ্বে যা 

কিছু এল-পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি অর্ধেক তার আনিয়াছে নর অর্ধেক তার নারী। কিন্তু সেই 

নারীরা আজ ও কর্মক্ষেত্রে অবহেলিত। প্রাচীনকালে নারীরা কৃষিতে গোড়াপত্তন করলেও দেশে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঘটা করে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নারীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ অনেক কিছুই করা হয়। বরং শ্রমও আইনের বাস্তব প্রয়োগ নেই এ উপজেলায়। কৃষি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা। কৃষিতে রয়েছে যথেষ্ট শ্রমের চাহিদা। পুরুষ শ্রমিকদের মজুরি বেশি ও নারী শ্রমিকদের কাজে ফঁাকি দেওয়ার প্রবণতা কম থাকায় দিনদিন নারী শ্রমিকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মঘন্টা নেই শুধু মজুরির ক্ষেত্রে হচ্ছে চরম বৈষম্যের শিকার। সরকারি-বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে নারী-পুরুষ লিঙ্গ বৈষম্য কমিয়ে আসলেও কায়িক শ্রমের মজুরি ক্ষেত্রে বৈষম্য যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে ওইসব শ্রমজীবী মহিলার উপর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা মাঠে কাজ 

করছে সমানতালে। বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের কদর বেশি হলেও মজুরি পাচ্ছেন পুরুষের অর্ধেক। যেখানে পুরুষ শ্রমিক পাছেন ৩০০টাকা সেখানে নারী শ্রমিক 

পাছেন ১৫০টাকা। নারী শ্রমিকরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। আলু রোপণ, পরিচর্যা,ধান কাটা মাড়াই, হোটেল সহ সবরকম কাজ স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা সাফল্যের সঙ্গে করলেও শ্রমও ক্রেতা ভ্থস্বামীদে কাছ থেকে নারীরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না। উপজেলার অধিকাংশ নারী শ্রমিক স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা কেউ বা অধিক সন্তানের জননী, আবার কারো সংসারে অভাবের 

তাড়নায় তাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। বিনিময় কৃষক, মালিক যা দেয় তা দিয়ে ছেলে 

মেয়ে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়।যদি কেউ মজুরি নিয়ে প্রাতিবাদ করে তবে তাদের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরা জানান, সাত সকালে দু,মুঠো খেয়ে কাজে যোগ দিতে হয়।সারা দিন কাজ আর কাজ। দুপুরে কপালে জোটেনা কোন নাস্তা পানি।এ এলাকার বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে এক তৃতীয়াংশ নারী কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আর শ্রম আইনের আওতায় নেই বরং বৈষম্যে শিকার। সভ্যতার বিকাশে নারীর অবদানের জয় গান শোনা গেলেও এ উপজেলায় নারী শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো শ্রমের মর্যাদা আজ ধুলোয় লুটিয়ে মিশে যেতে বসেছে। যত বৈষম্যসব যেন শুধু নারীর জন্য। নারী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে শ্রম আইনের বাস্তব প্রয়োগের প্রয়োজন।

No comments

-->