শিরোনামঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে আগাম জাতের সীম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

 নওগাঁর মহাদেবপুরে আগাম জাতের সীম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

মোঃ রফিকুল ইসলাম, মহাদেবপুর,নওগাঁ  জেলা প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে আগাম জাতের সীম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার কয়েকশ প্রান্তিক কৃষক ও কৃষানী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রকৃতিতে শীত আসার আগেই বাজারে উঠেছে এই শীতকালিন সবজি। ভরা মৌসুমের আগেই যারা বাজারে সীম তুলতে পেরেছেন তারা দামও পাচ্ছেন ভাল।

নতুন এ সীমের চাহিদা বেশি থাকায় প্রতি কেজি সীম ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অনুকুল আবহাওয়ায় সীমের ভাল ফলন ও ভাল দাম পেয়ে আর্থিক ভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কয়েক বছর আগেও এই এলাকায় শুধুমাত্র বাড়ির আঙ্গিনায় ও আশেপাশের পতিত জমিতে নিজের পরিবারের চাহিদা মিটাতে সীম চাষ করত বাড়ির মেয়েরা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ জনক হওয়ায় এখন সেই সীমের চাষ বাড়ীর আঙ্গীনা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের পর মাঠ। নওগাঁ জেলার সর্ব বৃহৎ বহমান আত্রায় নদী মহাদেবপুর উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই এলাকার ভূমি উর্বর । তাই উপজেলার উর্বর ভূমিতে সবজির উৎপাদন চমৎকার হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার ঝাঁড়গ্রাম, লক্ষ্মীপুর, ভালাইন, দোহালী, শিবরামপুর, এনায়েতপুর, রামচন্দ্রপুর, চককন্দর্পপুর, লক্ষীপুর, ডিমজাউন, নাটশাল, গোপালপুর প্রভৃতি গ্রামের মাঠে মাঠে এখন সবুজ সীমের সমারোহ। বাণিজ্যিকভাবে সীম চাষ করে সংসারের স্বচ্ছলতা এনেছেন এসব গ্রামের প্রায় ১ হাজারেরও অধিক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী। উপজেলার নাটশাল, চককন্দর্পপুর, লক্ষীপুর গ্রামের সীম চাষি গোলাম রাব্বাণী, আব্দুর রশিদ ও এনামুল হক জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে সীম ক্ষেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও সুষ্ঠ পরিচর্চায় শেষ পর্যন্ত সীমের ফলন কমহলেও দাম ভালো পাচ্ছি। জমি থেকেই নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট সহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা সীম কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় জানান, উপজেলায় এবার ১ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে সীম সহ শীত কালিন অন্যান্য সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যেমন সীমের উৎপাদন বেড়েছে তেমনি দামও রয়েছে ভাল। এই উপজেলার সীম বিক্রি করতে কৃষকদের কোন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।

No comments

-->