নতুন প্রকাশিতঃ

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে চলছে এক মাস ধরে অনশন

 বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে চলছে এক মাস ধরে অনশন।



ঠাকুরাগাঁও প্রতিনিধিঃঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রায় ৩৩ দিন ধরে অনশন করছেন এক কলেজ ছাত্রী। সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের তাপস চন্দ্র বর্মনের(২৩) এর বাড়িতে চলছে এই অনশন। সে ওই গ্রামের পরেশ চন্দ্র বর্মনের ছেলে। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে এখন পর্যন্ত কেন সমাধান হচ্ছেনা সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।


সোমবার সরেজমিনে গিয়ে ওই  ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায় যে, সে তাপসের বাড়িতে প্রবেশের পর পরই পরিবারসহ উধাও হয়ে যায় তাপস। আজ অবধি তাপস ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরেনি। তবে বাড়ির একটি ছোট ঘরে ঝুকির মধ্যে কষ্ট করে কোনমত একাই বাস করছেন ওই ছাত্রী। সে গয়েড়া ডিগ্রী কলেজের একদশ শ্রেণীতে ও তাপস চন্দ্র বর্মন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ডিপ্লোমায় পড়াশোনা করে। গত ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে বিষপান করে কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেচে যান।


ওই কলেজ ছাত্রী বলেন, দীর্ঘ ২ বছর ধরে  তার তাপস চন্দ্র বর্মনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণও  করে। তাপসকে বিয়ে করতে বললেও সে রাজি হচ্ছে না। তার বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এ বিষয়ে টালবাহানা শুরু করেছেন। আমরা কোন প্রকার মামলা না করলেও তাপসের বাবা পরেশ চন্দ্র বর্মন বিভিন্ন অভিযোগ এনে আমিসহ পরিবারের লোকজন মিলে ৯ জনের নামে আদালতে মামলা করেছেন। আমি তাপসকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবো না প্রয়োজনে আত্মহত্যা করবো।


স্থানীয় বাসিন্দা বিশু বর্মন জানান, তাপস ও ওই কলেজ ছাত্রীর প্রেমের বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক আছে বলে জানা যায়।


 পুত্রবধু করে ঘরে তুলে নিতে এলাকাবাসী তাপসের পিতাকে একাধিকবার অনুরোধ করেও কাজ হয়নি।

তাপসের পিতা পরেশ চন্দ্র বর্মনের সাথে কথা হলে বলেন, ওই ছাত্রীকে কোনমতেই আমার পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিব না। তবে তার অন্য কোথাও বিয়ে হলে আমি অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করবো।


গড়েয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ জাকির হোসেন হেলালের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তিনি কিছুই জানেন না।


গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল ইসলাম রেদো জানান, ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন চৌকিদার দিয়ে তাপসের বাড়ি পাহারা  বসিয়েছিলেন। পরবর্তিতে উভয় পরিবারকে নিয়ে আপোস-মিমাংসার জন্য বসলে মেয়ের পরিবার যাবতীয় নিয়ম মানলেও তাপসের পিতা পরেশ চন্দ্র বর্মন কোন কিছুতেই ওই ছাত্রীকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিবেন না বলে জানিয়ে দিয়ে মিটিংয়ে আসেননি।


এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে জেনেছি। এ বিষয়ে সর্বশেষ খোজ খবর নিচ্ছি। কয়েকদিনের মধ্যে উভয় পরিবারকে উপজেলা পরিষদে ডাকা হবে।


এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মোহা: মনিরুজ্জামান (পিপিএম) জানান, মেয়ের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

-->