নতুন প্রকাশিতঃ

মানুষ গড়ার কারিগর ‘মৌলভী হফিজ উদ্দিন স্যার’ আর নেই

 মানুষ গড়ার কারিগর ‘মৌলভী হফিজ উদ্দিন স্যার’ আর নেই।



নীলফামারী প্রতিনিধি:

না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের অনন্য শালীন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রূপকার তথা আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর মৌলভী মোঃ হফিজ উদ্দিন স্যার।

রবিবার রাত ৩ টা ১৫ মিনিটে কানিয়ালখাতা মুন্সি পাড়া গ্রামে  বার্ধক্যজনিত করণে মারা যান ৭৯ বছর বয়সী, মৌলভী হাফিজ উদ্দিন স্যার।রবিবার জোহরবাদ মৌলভী হাফিজ উদ্দিনের শ্যালক  কানিয়ালখাতা মুন্সি পাড়া দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার মুহাম্মদ আলী সিরাজীর ইমামতীতে কানিয়ালখাতা দাখিল মাদ্রাসা    মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে মরহুমের লাশ কানিয়ালখাতা মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।নীলফামারী সদরের কানিয়াল খাতা দাখিল মাদ্রাসা,    পঞ্চপুকুর ফাজিল মাদ্রাসা ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন জায়গাসহ  পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার আলো ছড়িয়েদিতে ছুটে গেছেন। তিনি  একজন শিক্ষা প্রেমী সাদা মনের মানুষ, তার জীবনে তিনি অসংখ্য স্কুল মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজের সহায় সম্বল শেষ করেছেন। তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ লোক কর্মরত!  তিনি পাকিস্তান আমলে কামিল পাশ করেন। একাধারে দীর্ঘদিন স্বেচ্চায় নিজ গ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের মোতাওয়াল্লী করেছেন।  কানিয়াল খাতা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসাও তার হাতের ফসল। ৩৬ বছরের শিক্ষকতার জীবনে তিনি প্রথমে ১৯৮১ সালে কানিয়াল খাতা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পায় এবং পরে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন।সারাজীবন ‘মানুষ গড়ার কারিগরে’ নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তার হাতে গড়া শিক্ষার্থীরা আজ দেশে বিদেশে নিজ নিজ অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত। অনেকেই আছেন তার মতো শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত।৩৬ বছরের শিক্ষকতার জীবনে তিনি কত হাজারজনের জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন তার হিসাব করতে হলে রিতিমত হিমসিম খেতে হবে হয়তো। শেষ বয়সেও তিনি গ্রামের মক্তবে ঝড়ে পড়া ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা দেন এবং স্কুল গামী করে গড়ে তোলেন।তিনি কখনো নিজের জন্য ভাবেন নি, নিজের জন্য কিছু করেন নি। ব্যাক্তি জীবনে তিনি ছিলে সৎ ও অত্যন্ত ধার্মীক, মৌলভী মোঃ হফিজ উদ্দিন আট সন্তানের জনক।কানিয়াল খাতা মুন্সিপাড়া গ্রামের সমাজ সেবক  মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, মৌলভী মোঃ হফিজ উদ্দিন ভাই আমার নিকট আত্মিয়, আমার অভিভাবক, আমি একজন অভিভাবককে হারালাম। আমি গভীরভাবে শোকাহত। সবাই হাফিজ উদ্দিন ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতুলফেরদৌস দান করেন। ইটাখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান,  হাফিজুর রশিদ মঞ্জু শোক জানিয়ে বলেন মরহুম আমার কাছের প্রিয় একজন মানুষ, তিনি ব্যক্তি জীবনে  সৎ ও অত্যন্ত ধার্মীক ব্যক্তি, তিনি নিজের জন্য কিছু করেন নি, সবসময় মানুষের উপকার করে গেছেন।কানিয়ালখাতা মুন্সি পাড়া দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান প্রধান শিক্ষক সাবেদ আলী সুপার  মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন তিনি আমার শিক্ষাগুরু, সকলে আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকের জন্য দোয়া করবেন। তার সন্তানেরা তাদের বাবার জন্য দেশ-বিদেশে অবস্থানরত তার সকল ছাত্রছাত্রী সহ সকলের কাছে  দোয়া চেয়েছেন।

No comments

-->