নতুন প্রকাশিতঃ

ডিমলায় অংকুর ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা এবং ডু সামথিং ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে গরু পেল বৃদ্ধ সইমুদ্দিন

 ডিমলায় অংকুর ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা এবং ডু সামথিং ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে গরু পেল বৃদ্ধ সইমুদ্দিন


নুরুজ্জামান সরকার,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৭ নং খালিশা চাপানী ইউনিয়ন এর ডালিয়া ৬ নং ওয়ার্ড সরকার পাড়া গ্রামে আজ বুধবার (১৪-অক্টবর) দুপুর ১ ঘটিকা সময় গরুর অভাবে ২০ বছর থেকে নিজেই ঘানি টেনে তেল উৎপাদনকারী সেই সইমদ্দিন ইসলামকে একটি গরু এবং ঘানি মেরামতের জন্য নগদ টাকা দেওয়া হয়।


 গত শনিবার ১০ ই অক্টোবর একটি নিউজপেপার মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সইমুদ্দীন। তিনি ২০ বছর যাবৎ কষ্ট করে আরে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করেন, তার বর্তমান বয়স ৭০ বছর। বর্তমানে খুব কষ্টে জীবন যাপন করতে ছিলেন। দৃশ্যটি স্থানীয় সংবাদিক মোহাম্মদ আলী সানুর নজরে আসলে তিনি একটা নিউজ করেন এবং এই নিউজটি স্থানীয় সংগঠন সুর্যের হাসি ফাউন্ডেশন তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির বাজারে আসে।


স্থানীয় সংগঠন সূর্যের হাসি ফাউন্ডেশন এবং তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সহযোগিতায় অংকুর ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা এবং ডু সামথিং ফাউন্ডেশন এর আর্থিক সহযোগিতা ওই বৃদ্ধকে গরু উপহার দেওয়া হয়।


এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডিমলা থানার ইনচার্জ অফিসার (ওসি) মোঃ সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ)।


সভাপতিত্ব করেন ৭নং খালিশা চাপানি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার। 


এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’র স্বেচ্ছাসেবক আব্দুর রহিম বাবু, অংকুর ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম, সূর্যের হাসি ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ডাক্তার মোঃ রেজাউল করিম, ডিমলা যুবলীগের নেতা এবং তরুণ উদ্যোক্তা জনাব মোহাম্মদ এটিএম আলমগীর (কবির), দেশ বানী পত্রিকার সম্পাদক ‌রুবেল পারভেজ,চলো স্বপ্ন ছুঁই সংগঠনের আহবায়ক মোহাম্মদ মিশুক আহম্মেদ বর্ষ সহ বিভিন্ন মিডিয়া সাংবাদিক রা উপস্থিত ছিলেন।


গরু ছাড়াই তৈলের ঘানি টানার ব্যাপারে জানতে চাইলে সইমদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত সরিষার তৈলের ব্যবসা করে আসছি। ব্যবসার শুরুতে ১টি গরু ছিলো। সেই টানতো তৈলের ঘানি। ১৫ বছরের মাথায় গরুটি মারা যায়। সে থেকে গরু কেনার সামর্থ না থাকায় নিজেই ঘানি টানছি। ভোর ৩ টায় ৫ কেজি সরিষা ঘানিতে দিলে সকাল ১১টার দিকে তৈল মাড়াই শেষ হয়। তিনি আরো বলেন,আমার এই কস্ট দেখে গরু কিনে দেওয়ায় ‘অংকুর ইন্টারন্যাশনাল’ সংগঠন সহো যারা আমাকে সাহায্য করলেন সবাইকে

 ধন্যবাদ ।


ডিমলা থানার ইনচার্জ অফিসার বলেন, বৃদ্ধকে  সহযোগিতা করার ব্যাপারে যুবকরা এত উৎসাহ ।

ছোটদের এরূপ কর্মকাণ্ড দেখে আমি খুব খুশি। যুবকরাই পারে সমাজের পরিবর্তন করতে। এবং তিনি প্রত্যাশা করেন এই স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করবেন।


ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আতাউর রহমান বলেন, আসলে এরকম একটা ব্যাপার আমার  নজরে কখনো আসেনি, আমি অনেক খুশি এবং আমি ধন্যবাদ জানাই এই সকল যুবকদের যাদের সহযোগিতায় আজ গরু পেল বৃদ্ধ সইমুদ্দিন।


উল্লেখ্য যে, বৃদ্ধ সইমুদ্দিন ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের বাবা। ছেলেরা যে যার সংসার নিয়ে টানা পোড়া, ৩ মেয়ের মধ্যে ২ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ছোট মেয়ে নিলুফা আক্তার সে জলঢাকা সরকারী ডিগ্রী কলেজে ডিগ্রী ২য় বর্ষে অধ্যায়নরত। এতিম নাতি মনির হোসেন (১২), স্ত্রী নুর নাহার (৫৫) সহ ৪ সদস্যের সংসার তাঁর।


No comments

-->