নতুন প্রকাশিতঃ

মাদক গ্রহণকারী এবং তাদের যৌনসঙ্গীদের এইচআইভি প্রতিরোধে মতবিনিময়

 মাদক গ্রহণকারী এবং তাদের যৌনসঙ্গীদের এইচআইভি প্রতিরোধে মতবিনিময়


রাজশাহী প্রতিনিধি:


রাজশাহীতে সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এবং তাদের যৌনসঙ্গীদের জন্য এইচআইভি প্রতিরোধে মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১ টার দিকে রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এবং তাদের যৌনসঙ্গীদের জন্য এইচআইভি প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং আসক্ত পূনর্বাসন সংস্থা (আপস)-কেয়ার বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।


রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো: জাফরূল্ল্যাহ কাজল এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী রেঞ্জ এর অতিরিক্ত ডিআইজি টি এম মোজাহিদুল ইসলাম, বিপিএম  পিপিএম।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা: মহা: এনামুল হক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যাললের উপ-পরিচালক (গোয়েন্দা) আলী আসলাম হোসেন, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: লুৎফর রহমান, এবং দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আকবারুল হাসান মিল্লাত।


প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের শুরুতে, আপসের নামকরন ও আপসের কার্যক্রমের সুনাম করেন। পরবর্তীতে তিনি হেপ-বি/সি এবং এইচ আইভি এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে সু্ইঁয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের মাঝে হেপাটাইটিস-সি এর সংক্রমনের হার নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ/নিডিল সঠিক ভাবে বার্ন করতে হবে।


তিনি বলেন, হেপ-বি/সি, এইচ আইভি প্রতিরোধ সহ মাদক থেকে মুক্তি লাভে ওএসটি একটি কার্যকরী উপায়। যেহেতু আঠারো বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ওএসটি গ্রহণযোগ্য নয়, এজন্য মাদক চিকিৎসা এবং রিহ্যাবিলিটেশন এর উপর আরো বেশী গুরুত্ব প্রদান এবং এর পরিসর বাড়ানোর পরামর্শ দেন।


তিনি বলেন, আসক্ত ব্যক্তিরা অপরাধী না, তাদের হাজতে নয় রিহাব সেন্টারে পাঠানো প্রয়োজন। মাদক নির্মূল করতে হলে শুধু প্রশাসন না সকলকে সমষ্টিগতভাবে চেষ্টা চালাতে হবে তার সাথে সাথে আমাদের সকলকে  ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক মূল্যবোধ ও  পারিবারিক ভাতৃত্ববোধ মেনে চলতে হবে।


বিশেষ অতিথি রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা: মহা: এনামুল হক তার বক্তব্যে বলেন, “রোগকে ঘৃনা কর রোগীকে নয়”। ধর্মকে সঠিক ভাবে পালন এবং ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা সাধারণ জনগনকে সচেতন করতে পারলে আমরা সকলেই যেমন উপকৃত হবো, সেই সাথে এইচআইভি মুক্ত সমাজ রাখাও সম্ভব হবে। করোনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ‘No mask no service’ বিষয়টির উপড় গুরুত্ব প্রদান করেন। অবশেষে সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।


রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো: জাফরূল্ল্যাহ কাজল বলেন, “মাদক চিকিৎসায় ওএসটি (অপিওয়েড সাবসটিটিউশন থেরাপী উইথ মেথাডন) এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ যার সুফল রাজশাহীর সু্ইঁয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীরা পেতে শুরূ করেছে। অপিওয়েড সাবসটিটিউশন থেরাপী (OST) WHO সীকৃত বিশ্বব্যপী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা সুঁই এর মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ওএসটি গ্রহনের মাধ্যমে একজন সুঁই এর মাধ্যমে মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশামুক্ত থেকে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখতে পারে। এইচ আইভি/এইডস এবং অন্যান্য রক্তবাহিত রোগ যেমন হেপাটাইটিস বি,সি ইত্যাদি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে এই প্রোগ্রামটি ২০১০ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে বাংলাদেশের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা এবং রাজশাহীতে ১১টি সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ২২০০ মাদকাসক্ত ব্যক্তি ওএসটির মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। এই ১১ টি সেন্টারের মধ্যে একটি সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনের আঞ্চলিক নিরাময় কেন্দ্র তেরখাদিয়া রাজশাহীতে। সেভ দ্যা চিলড্রেনের সহযোগিতায় এই কার্য়ক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থার উর্ধতন কর্র্তৃপক্ষের ভারচুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে এই ওএসটি সেন্টারের কার্য়ক্রম আরাম্ভ হয় গত মাসের ৩ জুন ২০২০ তারিখে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৭৬ জন সুঁই/সিরিঞ্জ মাধ্যমে মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিয়মিত ওএসটি গ্রহন করছেন এবং সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।”


এর আগে সভায় আপস এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মো: আবুল বাশার পল্টু স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি আপস এর সার্বিক কার্যক্রম ও বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের বর্তমান এইচআইভি ও এইডস পরিস্থিতি, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত সকলের মাঝে উপস্থাপন করেন এবং সেই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।


সভায় শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সমাজসেবী, ডাক্তার, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারী কর্মকতা ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গসহ বিভিন্ন শ্রেনীর প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণকারী  উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোল প্রোগ্রামের তত্ত্বাবধানে এবং সেভ দ্যা চিলড্রেনের সহায়তায় আসক্ত পূনর্বাসন সংস্থা (আপস) বিগত কয়েক বছর থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং ঢাকা (যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা) সু্ইঁয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এবং তাদের যৌনসঙ্গীদের মাঝে এইচআইভি প্রতিরোধমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করছে দ্য গ্লোবাল ফান্ড।

No comments

-->