নতুন প্রকাশিতঃ

এবারো রাজশাহী টাইগার সংঘের ব্যতিক্রম মণ্ডপ

 এবারো রাজশাহী টাইগার সংঘের ব্যতিক্রম মণ্ডপ



রাজশাহী প্রতিনিধি


সীমাবন্ধতা থাকলেও শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে রাজশাহীর পূজামণ্ডপগুলো। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘটা করেই অবস্থান নিয়েছেন দেবী দুর্গা। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার মহাধুমধামে হচ্ছে না দুর্গোৎসব।


এ বছর রাজশাহীতে ৪০৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে জেলায় ৩৩৯টি এবং মহাসগরে ৬৯টি। পূজামণ্ডপগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ এই তিনটি ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


রাজশাহীতে সীমাবদ্ধ আয়োজনের কারণে পূজামণ্ডপে এবার বৈচিত্র তেমন ফুটে উঠেনি। তবে প্রতিবছরের ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করে মণ্ডপ তৈরি করেছে নগরীর টাইগার সংঘ। মহামারিকে সামনে রেখে করোনাভাইরাস সচেতনতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করেছে তাদের মণ্ডপ। বরাবরের মতোই মহানগরীর রাণীবাজার মোড়ে এই মণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে।


টাইগার সংঘের পূজা মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে করোনা মহামারির অন্যতম রক্ষাকবজ মাস্ক দিয়ে। মণ্ডপের দুই পাশে দু’টি হ্যান্ডস্যানিটাইজারের দৃশ্য স্থাপন করা হয়েছে। মণ্ডপের ওপরের দিকে স্থাপন করা হয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রতীকী ছবি।


টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থপাল চৌধুরী জানান, টাইগার সংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যতিক্রমি মণ্ডপ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিগত ৫ বছর থেকে বাংলাদেশেসহ বিশ্বের বহুল আলোচিত বিষয় নিয়ে তারা মণ্ডপ তৈরি করছেন। তাদের ব্যতিক্রমি মণ্ডপ প্রশংসিতও হয়েছে। তবে করোনা মহামারির কারণে বৈচিত্রধর্মী আয়োজনের কিছুটা ব্যতয় ঘটেছে। তাদেরকে এবার বেশকিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। এরপরও তারা সীমিত আকারে কিছুটা বৈচিত্র আনার চেষ্টা করেছে।


এর আগে আইয়ুব বাচ্চুর রুপালি গিটার তৈরি করে প্রশংসিত হয়েছে মণ্ডপটি। তার আগের বার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বাহুবলী, বাংলাদেশের টাইগার অর্থাৎ বাঘের মুখের অবয়ব তৈরি করে প্রশংসিত হয় এই পূজামণ্ডপ।


মণ্ডপের পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী জানান, বিগত পাঁচ বছর থেকে তিনি এই মণ্ডপে পূজা করেন। বিগত দিনগুলোতে পূজার আয়োজন যেমন বড় হতো, তেমননি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যেত। কিন্তু করোনা ও বৃষ্টিতে এবার ভক্তদের উপস্থিতি কম দেখছেন।


মহানগরীর বুলনপুর শিব মন্দির, চণ্ডীর কালিমাতার মন্দির, পদ্মা সার্বজনীন শিব মন্দির, দিগন্ত সার্বজনীন মন্দির, পরিজাত মণ্ডপসহ আরও বেশ কয়েকটি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপগুলোতে অন্যান্য বছরে চেয়ে ভক্তদের উপস্থিতি কম। প্রতিবছর ষষ্ঠীর দিন থেকে মণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের দেখা গেলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া শুক্রবার থেকে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি।


রাজশাহী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পূজামণ্ডপের আয়োজন এবার অনেকটাই সীমাবদ্ধ। এবার উৎসব নয়, আয়োজন হয়েছে পূজার।

No comments

-->