নতুন প্রকাশিতঃ

গরীবের বাড়িতে হাতির পা,স্ত্রীর প্রতি স্বামির বিরল ভালোবাসা

      গরীবের বাড়িতে হাতির পা,স্ত্রীর প্রতি স্বামির বিরল ভালোবাসা



রাসেল ইসলাম,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

বউকে ধরেছে ‘ভূতে’। ‘ভূত তাড়াতে বিপাকে কৃষক দুলাল। বউয়ের ভূতের আচরে টেনশনে কৃষক দুলাল।  ভূত তাড়াতে একেক পর এক চেষ্টা। ভূতও নাছর বান্দা। তার দাবি পূরণ না হলে ছাড়ছে না কৃষক দুলাল চন্দ্রের বউ তুলসী রানীকে। তুলসী রানীর ওপর ‘ভূত’ ভর করে তার একের পর এক আবদার জানাচ্ছে। আবদার পূরণ করতে নিঃস্ব প্রায় দুলাল। ভূতের শেষ দাবি কিনতে হবে হাতি।  বউকে রক্ষায় কৃষক দুলাল শেষ সম্বল তিন বিঘা জমি বিক্রি করে কিনেছেন হাতি। হাতি কিনে বউকে রক্ষায় ঘটনায় এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আলোড়ন। কৃষক স্বামীর  হাতি উপহার বউয়ের প্রতি বিরল ভালোবাসা দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার কৌতূহলী মানুষের ভিড়।  ঘটনাটি ঘটেছে  লালমনিরহাটের সদরের পঞ্চগ্রামের রতিধর দেউতি গ্রামে। স্ত্রী রানীকে ভালো করতে নিঃস্ব প্রায় স্বামী দিনমজুর দুলাল।  লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রতিধর গ্রামে গেলে দেখা যায়, দুলালের হাজারো জনতার উপচেপড়া ভিড়। দুলাল চন্দ্রের বাড়িতে রয়েছে ছনের ঘড়। আছে একটি টিনের ঘড়। চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করে চলে সংসার।  ওই গ্রামের দুলাল চন্দ্র রায়ের সাথে তুলশী রানীর বিয়ে হয় ২০ বছর ধরে। দীর্ঘ ২০ বছর ছিল না তাদের সংসারে বিরোধ। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অনেক ভালোবাসা। এক পুত্র ও এক কন্যার পিতা-মাতাও হয়েছেন তারা।  দুলাল চন্দ্রের সাথে তুলসী রানীর বিরল ভালোবাসা দেখে হতবাগ গ্রামবাসীরা। দুলাল চন্দ্রের পৈতিক সূত্রে ৪ বিঘা জমি ছিল তা দিয়ে চলে তার সংসার। তাদের সংসারে  ‘ভুতের আছর’ ভর করলো বউ তুলসীর ওপর। ‘ভূতের আছর’ হলে তুলসী রানী হয়ে পড়ে অসুস্থ। তাকে সুস্থ করতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ স্বামী দুলাল চন্দ্র রায়। ভালোবাসার স্ত্রীর অসুস্থতায় টেনশনে দুলাল। তুলসীর ওপর ‘ভূত ভর’ করে তার কাছে নানান দাবি করে।  প্রথমে দাবি,  হাঁস জবাই করলে যাবে তুলসীকে ছেড়ে দেবে ভূত। হাঁস জবাই করলেও  যায়নি ‘ভূত’। ভুতের দ্বিতীয় দাবি একটি ঘোড়া কিনতে হবে তার স্বামী দুলাল চন্দ্রকে। দরিদ্র দিনমজুর দুলাল তার  তুলসীকে রক্ষায় চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনে আনেন। ঘোড়া কিনেও শান্তি হয়নি। ‘ভূত’ যায় না। তুলসী দিনে দিনে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে আবারো ভর করে এবার ‘ভূতের’ দাবি হাতি কিনে আনতে হবে। হাতি কেনার কথায় বেকায়দায় পড়ে যান দুলাল চন্দ্র।  ভূতের কবল থেকে বউকে রক্ষা করতেই হবে- দুলালের এক প্রতিজ্ঞা। অবশেষে দুলাল তার স্ত্রীকে রক্ষায় বাকি তিন বিঘা আবাদী জমি বিক্রি করেন। বাড়ির গাছ-এমনকি বসতবাড়ি বন্দক রেখে ধার-দেনা করে বউকে রক্ষায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনে আনেন হাতি। গরীবের বাড়িতে হাতির পা।  মৌলভীবাজার জেলা থেকে হাতিটি কিনে আনেন দুলাল। নিয়ে আসেন ট্রাকে করে।  শুক্রবার গরীবের বাড়িতে হাতির দেখে হাজারো দর্শকের ভিড়। কৃষক হয়ে দুলাল চন্দ্র স্ত্রীর সুস্থতায় হাতি উপহার- বিয়ষটি সর্বত্র চলছে আলোড়ন। স্ত্রী তুলসীর প্রতি বিরল ভালোবাসা কৃষক দুলাল চন্দ্র রায়ের।  হাতি কিনতে কিছু দিন দেরি হওয়ায় দিনে দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুলালের স্ত্রী।   মৌলিভীবাজার থেকে  হাতি পরিবহন করা ট্রাক ভাড়া ২০ হাজার  টাকা। তাও ছিল না তার হাতে। গাছ বিক্রি করে দেওয়া হয় ট্রাক ভাড়া। সাথে হাতি পোষ মানার জন্য সিলেট থেকে এসেছেন শরীফুল নামের  একজন মাহুত। ওই মাহুতের বেতন প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা।  মাহুত শরীফুল জানান, হাতি প্রতিদিন ১০টি কলাগাছ, ৩ কেজি ভুসি, গুড় ২ কেজি, কলা ২ কাঁদি কলা খায়। প্রতিমাসে হাতির খোরাক প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। মাহুতের খাবার বাবদ ৬ হাজার টাকা।  প্রতি মাসে দুলাল চন্দ্রের ব্যয় মহবে প্রায় ৩৫  হাজার টাকা। এ টাকা যোগান নিয়ে টেনশনে দুলাল। দুলাল বললেন, ভগবান দিবেন। বললেন, ‘সম্পতির চেয়ে আমার কাছে আমার স্ত্রী বড়। কারনে হাতি না কিনলে প্রতিদিন ‘ভূত’ অত্যাচার করছে। এ কারণে স্ত্রীর দাবি পুরণ করেছি।’  স্ত্রী তুলসী রানী বলেন, ‘ভগবানের দয়ায় যেহেতু হাতি এসেছে এখন কিছুটা সুস্থ।’ স্বামী-স্ত্রীর বিরল ভালোবাসায় হতবাক পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, দুলাল চন্দ্র হাতির খরচ কিভাবে সংগ্রহ করবে তা নিয়ে রয়েছে তার চিন্তা। কিন্তু তার বউয়ের প্রতি তার এতো ভালোবাসা। বউকে সুস্থ করতে জমি বিক্রি করে হাতি কিনলো দুলাল।  এলাকার অতুল চন্দ্র জানান, হাতি দেখে তো আমরা অবাক হয়েছি। গরিবের  বাড়িতে হাতির পা দেকতে সবাই দলে দলে ছুটে আসছে।  লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা উত্তম কুমার জানায়, হাতি আনার বিষয়টি শুনেছি। তবে এটি বিরল ঘট

No comments

-->