নতুন প্রকাশিতঃ

ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ এর দুই গ্রুপ এর সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ এর কমিটি স্থগিতঃ

 ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ এর দুই গ্রুপ এর সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ এর কমিটি স্থগিতঃ

মুনছুর আহমেদ সুমন, আটঘরিয়া প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঈশ্বরদী উপজেলা ও ঈশ্বরদী পৌর শাখা এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঈশ্বরদী উপজেলা ও ঈশ্বরদী পৌর শাখা কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, পাবনা জেলা শাখার আহবায়ক আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি ও যুগ্ম আহবায়ক শিবলী সাদিক এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এর সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত পত্র মারফত অদ্য ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এ সকল কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। 


উল্লেখ্য, আজ সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ কতৃক আয়োজিত বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ কতৃক আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়ক জনাব এস এম কামাল হোসেন, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু সহ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ এর উপস্থিতিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে, সভায় আগত অতিথিদের অভ্যার্থনা জানাতে সামনে দাঁড়ানো কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ এর সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মালিথার মধ্যে ধাক্কাধাক্কি থেকে ঘটনার সূত্রপাত, এরই রেশ ধরে তাৎক্ষণিক নেতা-কর্মীদের মধ্য হাতাহাতি ও চেয়ার ছুঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়, উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে ব্যার্থ হন, এক পর্যায়ে কার্যালয়ের মধ্যে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন যুবলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন লাবু ও ঈশ্বরদী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান এর ছেলে রনি খান। তাদের দুজনকে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, অন্যান্য আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতে অন্যান্য আহতরা হলেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু , সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, আওয়ামী লীগ নেতা আবু কালাম, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর মালিথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলবার হোসেন ও যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মেয়র আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই আওয়ামিলীগে অনুপ্রবেশকারীরা ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে আবারো খণ্ড-বিখণ্ড করার চক্রান্ত হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই নৌকার বিজয় ঠেকাতে পারবে না।অন্যদিকে, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ এর সাধারন সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথা বলেছেন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ইচ্ছাকৃত ভাবে নির্বাচন বানচালের জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তার নেতৃত্বেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। 


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদীর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য জেলা কমিটিকে বলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ঘটনা সম্পর্কে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেখ নাসীর উদ্দীন  বলেন, আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে শহরের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

No comments

-->