নতুন প্রকাশিতঃ

গো-খাদ্যে ব্যাপক সংকট,বিপাকে খামারীরা

 গো-খাদ্যে ব্যাপক সংকট,বিপাকে খামারীরা


মোঃ রাসেল ইসলাম,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

ভারী বর্ষণ ও বন্যায় শুকনো খড় পচে নষ্ট হওয়ায় লালমনিরহাটে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে গবাদী পশু নিয়ে ক্ষুদ্র খামারীরা বিপাকে পড়েছেন।

 খামারীরা জানান, তিস্তা ও ধরলা নদীবেষ্টিত জেলা লালমনিরহাটের ৫টি  উপজেলার অর্ধশত চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি পরিবার গবাদী পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকেই গবাদী পশুর ছোট ছোট খামার গড়ে তুলেছেন। এসব পশুর খাদ্যের জন্য ধান মাড়াই শেষে ধানগাছ শুকিয়ে খড়ের গাদা করে মজুদ রাখেন, যা সারা বছর গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চলতি বছর জুন মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বর্ষণ ও দফায় দফায় বন্যায় চাষিদের খড়ের গাদা পানিতে ডুবে পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব পরিবারের সঞ্চিত খড় নষ্ট হওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে গো-খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা বাড়ায় জেলার বিভিন্ন বাজারে মৌসুমী কয়েকজন ব্যবসায়ী খড় বিক্রি শুরু করেছেন।

তারা পাশ্ববর্তী জেলার উঁচু অঞ্চল থেকে খড়ের গাদা কিনে ছোট ছোট পুঁটলি তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। কম পুঁজির খামারী বা কৃষকরা এসব পুঁটলি কিনে সামান্য পরিমাণে খাবার হিসেবে দিয়ে গরুগুলোকে কোনো রকমে বাঁচিয়ে রাখছেন। বয়স্ক একটি গরুর জন্য দৈনিক খড় লাগে একশ’ টাকার এবং দানাদার খাদ্যে ব্যয় হয় আরও একশ’ টাকা। সবমিলে গরু প্রতি দৈনিক ১৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে সংকটের কারণে পরিমাণ মতো খাদ্য না পেয়ে অনেক গরু হাড্ডিসার হয়ে গেছে। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন খামারীরা। কিছুদিন আগে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া লাম্পিং স্কিন রোগের চিকিৎসা করতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারীরা। এরই মধ্যে খাদ্যের সংকটে পড়ে তারা আরও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে ভুষি, চালের গুড়াসহ বিভিন্ন দানাদার গো-খাদ্যের দামও লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতি বস্তা ভুষি ১১/১২শ’ টাকা থেকে বেড়ে ১৬/১৭শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধানের গুঁড়া (৫০ কেজি) প্রতি বস্তা ৪শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৫শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ অভিযান চালিয়েও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে খামারীদের অভিযোগ।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় দুধের চাহিদা অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে দুগ্ধ খামারগুলো অর্থ সংকটে পড়েছে। একদিকে দুধের দাম কম এবং অন্যদিকে গো-খাদ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। খাদ্য কম থাকায় দুধের উৎপাদনও কমেছে। লোকসানের আশঙ্কায় নিরুৎসাহিত হচ্ছেন জেলার খামারিরা। জেলার উঁচু অঞ্চলের বড় খামারীরা ঘাসের চাষ করলেও নদী অঞ্চলের খড় নির্ভর ক্ষুদ্র খামারীরা গো-খাদ্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। খামার ধরে রাখতে চরা দামে উঁচু অঞ্চল থেকে খড় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বন্যা ও নদী ভাঙনে দিশেহারা এসব খামারী পরিবার নিজেদের খাদ্য যোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় গো-খাদ্য কেনা তাদের জন্য অনেকটাই অসম্ভব। কেউ কেউ চরা সুদে দাদন ব্যবসায়ীর কাছে ঋণ নিয়ে খামার ঠিক রাখছেন। অনেকেই খাদ্যের যোগান দিতে না পেরে পোষা গরুগুলো বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু জেলার বাজারে গরুর আমদানি বাড়ায় ও ক্রেতা কম থাকায় কম দামে গরু বিক্রি করছেন তারা।

No comments

-->