নতুন প্রকাশিতঃ

কমলাই নদী থেকে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে পাঁকা রাস্তা ও ফসলি জমি।

 কমলাই নদী থেকে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে পাঁকা রাস্তা ও ফসলি জমি।


নুরুজ্জামান সরকার, ডিমলা (নীলফামারী)প্রতিনিধি:

নীলফামারীর  ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী মধ্য দিয়ে কমলাই নদী প্রবাহ মান । এই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যার ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছে নদী তীরবর্তী ফসলি জমি ও নদীর গতিপথ এবং গয়াবাড়ী ইউনিয়নের মতির বাজার হইতে রহমানগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ( এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত) ৩১০০ মিটার দীর্ঘ পাঁকা রাস্তা, এটা নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকার ও বেশি । নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় নদী তীরবর্তী পাকা রাস্তার একাংশ ট্রলি/ ট্রাক্টর চলাচলের কারণে ডেবে গেছে। আশু বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন অত্র এলাকার সর্বসাধারণ। এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করে। কোন কারণে এই রাস্তাটি ক্ষতি সাধিত হলে অত্র এলাকার জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

স্থানীয় লোকজন সুত্রে  জানা যায়, এ নদীর তমিজ উদ্দীন এর বাড়ীর নিকট থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে আর,ছে তমিজউদ্দীন এর ছেলে সামছুল হক (৪০) । উপজেলার কমলাই নদীর ঐ স্থান কোনো বালুমহাল না। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় নদীর ওই স্থান বালুমহাল বানিয়ে ফেলেছেন সামছুল হক (৪০) । এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে ইচ্ছেমতো মাটিকাঁটা ও বালু উত্তোলন করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী হওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। মাটি কাঁটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগও করে কোন প্রতিকার পাননি তারা। প্রতিদিন, রাতে ও দিনে চলে মাটিকাঁটা ও বালু উত্তোলনের কাজ। আর সেই মাটি ও বালু নদী তীরবর্তী রাস্তা ব্যবহার করে ট্রাক্টর সহ বিভিন্ন যানবাহনে করে নেওয়া হয়।


এতে রাস্তার বারোটা বেজে গেছে ও এক পাশে ধসে গেছে। সেটা আর,ছে বর্ষা মৌসুমেই টের পাবেন এলাকার লোকজন। অথচ মাটিকাটা ও বালু উত্তোলনের কাজটি প্রকাশ্যে চললেও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে নীরব। তারা যেন দেখেও দেখছেন না এমন অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা  তারা মিয়ার পুত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, দ্রুত মাটিকাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কিই-বা করার আছে। কারণ তারা তো প্রভাবশালী। তিনি প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয়  মোঃ তমিজ উদ্দিন জানান, নদীতীরবর্তী স্থান থেকে মাটিকাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমিসহ রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই দ্রুত মাটিকাঁটা ও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মোঃ সামছুল হক বলেন,আমি আমার জমি হতে মাটি কাঁটছি কারো কিছু বলার আছে ? আমি আমার জমি থেকে মাটি কাটবোই কেউ কিছু করতে পারলে করুক, আমার কিছু যায়, আসে না।

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সফিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত মাটিকাঁটা ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই স্থানে থেকে মাটিকাঁটা ও বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হব।

No comments

-->