নতুন প্রকাশিতঃ

নীলফামারীতে গৃহবধু আকলিমা হত্যা মামলায় আটক-২

 নীলফামারীতে গৃহবধু আকলিমা হত্যা মামলায় আটক-২





বিশেষ প্রতিনিধি,নীলফামারী জেলা: নীলফামারীতে  ডার্বি সিগারেটের ফয়েল পেপারের সুইসাইট নোটেন সুত্র ধরেই আকলিমাকে  নৃশংস হত্যা কান্ডের রহস্য উৎঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ্।  



শনিবার ২৯ আগস্ট দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলণ কক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীর তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম,পিপিএম)।



সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান গত ২৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকায় সৈয়দপুর উপজেলা কামারপুকুর ইউনিয়নস্থ মৎস খামারে পিছনে বৈদ্যুতিক টাওয়ারের নিচে ১জনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় এলাকাবাসি। ঘটনাস্থল হতে মৃতদেহ উদ্ধার করে লাশ ময়না তদন্তের নীলফামারী মর্গে প্রেরণ করা হয়। পরে মৃত আকলিমার মা মমতাজ বেগম বাদী সৈয়দপুর থানায় অজ্ঞতনামীয়  একটি হত্যা মামলা করে। যাহার মামলা নং- ১৬. তারিখ ২৩-০৮-২০খ্রিঃ ধারাঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। 


তিনি আরো জানান, আকলিমার স্বামী পরকিয়া প্রেমে আসক্ত ছিলেন এবং সে প্রিিতদিনেই তাকে মারধর করতো। 


এ ঘটনার পূর্বে ২২ আগষ্ট আকলিমার স্বামী তার সন্তানদেরকে নিজের কাছে রেখে বাসা থেবে বের করে দেন। পরে বাবার বাড়িতেও স্থান না পেয়ে রাতে রাস্তায় অবস্থান নেয় আকলিমা। আকলিমাকে দেখে খাবার ও টাকা দিয়ে লোভ লাগিয়ে সাহায্যের কথা বলে রাতে মৎস খামারের কাছে কামারপুকুর এলাকার আনারুল ইসলাম, মোঃ শুভ ও মোঃ হ্নদয় আকলিমাকে একেরপর এক ধর্ষন করতে থাকে।  একাধিকবার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আকলিমা বাধা দিতে থাকলে আনারুল ও শুভ  মাছ ধরার বালতির সাথে বাধানো রশি দিয়ে আকলিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য আনারুল তার নিজ হাতে একটি ডার্বি কোম্পানীর সিগারেটের রাংতা'য় সুইসাইড নোট লিখে তা আকলিমার কোমরে গুজে দিয়ে হত্যাকান্ডটিকে আত্মহত্যা হিসাবে চালিয়ে দেওয়ার অপকৌশল করে। পুলিশ লাশের রহস্য উদঘাটনে লাশের সাথে পাওয়া চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে  আসামী ধরতে মাঠে নামে। এক পর্যায়ে আনারুলের হাতের লিখার সাথে চিরকুটের হাতের লিখা মিলে যায়। এর পরই বেরিয়ে আসে গৃহবধূ আকলিমাকে নির্মমভাবে হত্যার মূল ঘটনা। এই ঘটনায় পুলিশ আসামী আনারুল ও শুভকে গ্রেফতার করেছে এবং তারা বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় সেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ।



এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.বি.এম আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দপুর  সার্কেল অশোক কুমার পাল প্রমুখ। 


তিনি আরও জানান উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও মামলা তদন্তে সকল কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

No comments

-->